জেলার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসা এক নেতার নাম প্রায়ই ঘোরাফেরা করে স্থানীয় আলোচনায়। তার আশপাশে থাকা কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীকেও নিয়ে নানা ফিসফাস। অভিযোগ, সীমান্তঘেঁষা অঞ্চল দিয়ে গবাদিপশুর একটি অস্বচ্ছ বাণিজ্য দীর্ঘদিন ধরে চলছে।
রাতের ট্রাক, দিনের হাট
স্থানীয়দের দাবি, গভীর রাতে কিছু ট্রাক নির্দিষ্ট রুটে ঢোকে। কাগজপত্র ঠিকঠাক আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও দিনের আলো ফুটতেই সেই পশুগুলো হাটে দেখা যায়। বাজারে ওঠার আগে পশুগুলোকে বিশেষ ইনজেকশন দিয়ে অস্বাভাবিকভাবে মোটা দেখানো হয়, এমন অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ক্ষুদ্র খামারি।
তাদের একজন বলেন, “আমরা নিয়ম মেনে গরু লালন করি। কিন্তু বাজারে গিয়ে দেখি অন্য কেউ কম সময়ে বেশি দামে বিক্রি করছে। এতে আমরা টিকতে পারছি না।”
প্রভাবের বলয়
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এই ব্যবসার পেছনে একটি প্রভাবশালী বলয় কাজ করছে। সেই বলয়ের কারণে কেউ সরাসরি মুখ খুলতে সাহস পায় না। রাজনৈতিক ছত্রছায়া আছে কি না, সে প্রশ্নে সবাই এড়িয়ে যান। কেউ সরাসরি কিছু বলেন না, আবার পুরোপুরি অস্বীকারও করেন না।
অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের ঘনিষ্ঠরা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তাদের মতে, বাজারে প্রতিযোগিতা থাকতেই পারে, তাই বলে অবৈধ কর্মকাণ্ডের তকমা দেওয়া ঠিক নয়। তারা বলছেন, প্রমাণ ছাড়া অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যদি পশুকে অপ্রমাণিত ওষুধ বা হরমোন প্রয়োগ করা হয়ে থাকে, তাহলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। একই সঙ্গে এটি স্থানীয় খামারিদের অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
অপেক্ষা তদন্তের
প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে। তবে এখনো পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য তাদের হাতে আসেনি।
এই গল্পের শেষ এখনো লেখা হয়নি। সীমান্তের অন্ধকার পথে যা ঘটে, তার সবটাই কি একদিন দিনের আলোয় আসবে? নাকি ক্ষমতার ছায়া সব প্রশ্নকে ঢেকে রাখবে?
সময়ের কাছে সেই উত্তরই এখন সবচেয়ে বড় খবর।



