More

    নারায়ণগঞ্জে বিতর্কিত ব্যবসায়ী রাসিব কামরান: অভিযোগ গুলি চালানো ও মানি লন্ডারিংয়ে সম্পৃক্ততা

    নিজস্ব প্রতিবেদক

    গত ৫ আগস্টের আগে ছাত্রদের ওপর হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় নারায়ণগঞ্জে নতুন করে আলোচনায় এসেছে এক বিতর্কিত নাম—রাসিব কামরান। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি জুলাই মাসে সাধারণ মানুষের ওপর হামলা ও গুলি চালানোর ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিলেন।

    স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন রাসিব কামরান। অভিযোগ রয়েছে, তিনি “RK Agro Farm” নামের একটি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম এবং মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে জড়িত। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত অভিযোগ অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জের সাবেক এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তিনি এই কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

    ছাত্র আন্দোলনের সময় সহিংসতার অভিযোগ

    গত জুলাইয়ে ছাত্রদের আন্দোলন চলাকালে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই সময় রাসিব কামরানকে একটি দল নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালাতে দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজেও অস্ত্র ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালান।

    এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হওয়ার কথাও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ

    স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, “RK Agro Farm” নামের একটি কৃষি ব্যবসার আড়ালে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন করা হতো। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের কার্যক্রম পরিচালিত হতো। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

    প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন

    এতসব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এখনো পর্যন্ত রাসিব কামরানের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—
    যদি অভিযোগগুলো সত্য হয়, তাহলে কেন এখনো তাকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না?

    বর্তমানে জানা গেছে, তিনি নারায়ণগঞ্জেই তার ব্যবসা পরিচালনা করছেন এবং প্রকাশ্যেই চলাফেরা করছেন।

    তদন্তের দাবি

    স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। তারা বলছেন, ছাত্রদের ওপর হামলা, অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার এবং অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি।

    এই বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত শুরু এবং সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

    Latest articles

    spot_imgspot_img

    Related articles

    Leave a reply

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    spot_imgspot_img